সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

একজন আক্তার, যে মানুষ হয়ে উঠেছে আশ্রয়

  • আপলোড সময় : ২৮-০৭-২০২৫ ০৮:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৭-২০২৫ ০৮:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন
একজন আক্তার, যে মানুষ হয়ে উঠেছে আশ্রয়
এই যুগে যখন সভ্যতা প্রযুক্তির চূড়ায় পৌঁছে গেছে, তখনও মানবতা কাঁদছে ক্ষুধার্ত ভবঘুরে আর রাস্তার পাশে আহত হয়ে কাতরানো কুকুরের চোখে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে একজন দরিদ্র রিকসাচালক যুবকের নাম আমাদের বিবেকে নাড়া দেয়- আক্তার মিয়া। তার গল্প শুনলে মনে হয়, এখনো মানবতা মরেনি। বরং বেঁচে আছে কিছু দরিদ্র অথচ হৃদয়ে ধনী মানুষের প্রাণভোমরায়। সুনামগঞ্জ শহরের এক কোণে, এক পঙ্গু কুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে যে যুবকটি প্রতিদিন ৫-৬ বার গিয়ে ওষুধ দিচ্ছেন, পানি খাওয়াচ্ছেন, ককশিট বদলাচ্ছেন, দুর্গন্ধ যাতে না ছড়ায় সে ব্যবস্থা করছেন - তিনি কোনো এনজিও কর্মী নন, কোনো সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীও নন। তিনি রিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর দৈনিক আয় থেকেই ব্যয় করেন কুকুরটির ওষুধ-পথ্য ও ভবঘুরে মানুষের খাদ্যের জন্য। দ্রুতগতির এক সভ্যতায় যেখানে মানুষ নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশেও দাঁড়াতে নারাজ, সেখানে আক্তারের এই প্রাণিসেবা ও মানুষপ্রীতি আমাদের চোখে জল এনে দেয়। কুকুরটি যখন দুর্ঘটনায় আহত হয়, তখন রিকসা থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে সে প্রাণীটিকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। শহরের ফুটপাতে এক দোকানের সহানুভূতিশীল মালিক আব্দুর রহমানের দোকানই এখন তাঁর রাতের আশ্রয়স্থল। আক্তার এখানে থাকেন কেবল কুকুরটির সেবা করতে সহজ হয় বলেই। তবে আক্তারের দৃষ্টিভঙ্গি এখানেই শেষ নয়। তাঁর চোখে স্বপ্ন- একটি স্থানীয় ‘জীবপ্রেমী টিম’ গঠনের। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এমন একটি দল গড়ে উঠলে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমার টাকা-পয়সা নেই, তবে বিবেক আছে।” এমন নিরেট সততা ও দায়িত্ববোধ আজকের বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত হবার মতো। আমাদের সমাজে যখন প্রতিদিন পশু নির্যাতন, ভবঘুরেদের প্রতি অমানবিক আচরণ এবং সহানুভূতির সংকট দেখা যায় - তখন আক্তারের মতো একজন মানুষের অস্তিত্ব আমাদের আশা জাগায়। তাঁর মতো মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া জরুরি। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন চাইলে একটি ‘জীবন ও প্রাণী সেবা ইউনিট’ গঠন করতে পারে, যার অংশ হতে পারে আক্তার ও তাঁর মতো জীবনঘনিষ্ঠ মানুষরা। এই উদ্যোগ হতে পারে সারাদেশে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য